প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির লোকসান কমেছে ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৯৯ পয়সায়।
ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে ২৭ মে সকাল ১০টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করেছে প্রাইম ফাইন্যান্সের পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ৬ মে।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি প্রাইম ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১৪ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ২০১৯ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। আগের চার হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ২০১৪ হিসাব বছরে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।
প্রাইম ফাইন্যান্সের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি থ্রি’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।
২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৭২ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৭ কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৩। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ১৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বিদেশী ও বাকি ৩২ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ার সর্বশেষ ৪ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ টাকা ৯০ থেকে ৮ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।